উন্নয়ন মেলা ২০১৭

লক্ষ্য ও ঊদ্দেশ্যঃ

  • জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রম সর্বস্তরের জনগণের মাঝে তুলে ধরা;
  • সর্বস্তরের জনগণকে সরকারের উন্নয়ন কাজের সাথে সম্পৃক্ত করা; 
  • সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, এমডিজি অর্জনে সরকারের সাফল্য প্রচার ও এসডিজি কার্যক্রম বাস্তবায়নে জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করা, 
  • স্থানীয়জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবর্গ ও সরকারি কর্মকর্তাগণের যৌথ অংশগ্রহণেস্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে মতবিনিময় ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরি;

জেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা(২০০৮ থেকে ২০১৬):

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

উল্লেখযোগ্য অর্জন:

 

1.    ডিসি ইকো পার্ক

2.    যুব উন্নয়ন ভবন

3.    টিটিসি ভবন স্থাপন

4.    সার্ভার স্টেশন স্থাপন

5.    চুয়াডাঙ্গা জেলা স্টেডিয়াম

6.    সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

7.    উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন

8.    সরকারি গণগ্রন্থাগার

9.    জেলা মার্কেটিং অফিস স্থাপন

       10.রোড ডিভাইজ

ডিসি ইকোপার্ক(Unvailing the Treasure of Chuadanga)

    নদীয়া এস্টেটের জমিদার শ্রী নফর চন্দ্রপাল চৌধুরী ১৮৯৫ সালে দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগরের বৃহৎ  এলাকা জুড়ে  আম, কাঁঠাল ও লিচু গাছের সমন্বয়ে একটি বাগান তৈরী করেন। বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রবেশ পথের দুই পাশে সারিবদ্ধ করে শত শত তালগাছ রোপণকরেন। নফর চন্দ্র পাল চৌধুরী ১৯৪০ সালে পরলোকগমন করেন। তার দুই পুত্র ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ভারতে চলে যান। পরবর্তীতে বাগানটি সরকারের মালিকানায় চলে আসে। বহু বছর পরিচর্যার অভাবে বাগানটি প্রায় বৃক্ষশূণ্য হয়ে পড়ে এবং ঘন জঙ্গল সৃষ্টি হয়ে সর্বহারা পার্টির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। ২০১৩ সালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানের পর বাগান ও জলাশয়কে নতুনভাবে সাজিয়ে সরকারি সম্পদ রক্ষা ও সরকারি আয় বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা গ্রহণকরা হয়। বাগানটির সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এখানে 113প্রজাতির ১2,০37অধিক দেশী বিদেশী ফলজ, বনজ এবং ওষুধি গাছ রোপণপূর্বক সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

মানচিত্র

গত ১৩-১২-২০১৪ খ্রিঃ তারিখ বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব (প্রাক্তন সিনিয়র সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়) জনাব মোহাম্মদ শফিউল আলম এবং বিভাগীয় কমিশনার খুলনা বিভাগ জনাব মোঃ আবদুস সামাদ মহোদয়ের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়ার সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণের আতম-কর্ম মূল্যায়ন (Self assessment) কর্মশালাতে বাগন ও বাগান সংলগ্ন জলমহলের সম্ভাবনার বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে সিনিয়র সচিব মহোদয় ও কমিশনার মহোদয় কাজটি এগিয়ে নিতে উৎসাহ প্রদান করেন।

 

 

ডিসি ইকোপার্কের যাত্রাঃ

          বিভাগীয় কমিশনার খুলনা জনাব মোঃ আব্দুস সামাদ মহোদয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ২০১৪ সাল হতে তালসারি-শিবনগর আমবাগান ও বাগান সংলগ্ন বটতলী  বিল জুড়ে একটি ইকো পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। পার্কটি আকর্ষণীয় করার জন্য প্রাক্তন জেলা প্রশাসক জনাব দেলোয়ার হোসাইন এবং বর্তমান জেলা প্রশাসক জনাব সায়মা ইউনুস সহযোগিতা করে যাচেছন। ২০ জানুয়ারী ২০১৬ খ্রিঃ তারিখ বিভাগীয় কমিশনার খুলনা বিভাগ জনাব মোঃ আবদুস সামাদ মহোদয় কর্তৃক প্রত্নতত্তব বিভাগের মহা পরিচালক জনাব মোঃ আলতাফ হোসেন ও খুলনা বিভাগের দশ জন জেলা প্রশাসকগণের উপস্থতিতে ইকোপার্কের গেস্ট হাউজ উদ্বোধন করা হয়। গত ২৭ ফেব্রম্নয়ারী ২০১৬ খ্রিঃ তারিখ মন্ত্রিপরিষদ সচিব জনাব মোহাম্মদ শফিউল আলম ডিসি ইকো পার্কের মিনি চিড়িয়াখানা উদ্বোধন করেন। 22-082016তারিখ বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় কর্তৃক পার্ক ক্যাফে উদ্ভোধন করা হয়।

 

বাগান ও লেক মিলে প্রায় ১২৮ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত ইকোপার্কটি বর্তমান প্রকৃতি প্রেমি মানুষদের বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বাগানের সাথে সংযুক্ত প্রায় ৭৬ একর জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বাগান পরিচর্যা ও সুরক্ষার মাধ্যমে গাছের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া নতুন সৃজিত ফলজ গাছ সুরক্ষার মাধ্যমে পরিচর্যা করা হচ্ছে। আগামী ৫-৬ বছর পর হতে ফলজ গাছ লীজের মাধ্যমে প্রতি বছর কমপক্ষে এক কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। শতবর্ষী তালের সারি পলস্নব ঘেরা আম্রকানন, লিচু বাগান, কাঁঠাল বাগান, আম বাগান হয়েছে অসাধারণ এক পর্যটন কেন্দ্র যা চুয়াডাঙ্গা জেলার আকর্ষণ ও সম্মান বৃদ্ধি করছে। সৌন্দর্যের লীলা ভূমি আজকের ডিসি ইকোপার্কে প্রতিদিন দূর-দূরান্তহতে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটছে। পার্কের লেকের পানিতে সাম্পানে চড়ে আগত পর্যটক আননদ উপভোগ করছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আদর্শ একটি বিনোদন কেন্দ্র এবং প্রসিদ্ধ ও বিলুপ্তপ্রায় সকল ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ ও প্রাণীকূলের অভায়শ্রম তৈরী করার প্রয়াসে প্রতিদিন তিল তিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে ডিসি ইকোপার্ক।

উন্নয়ন মেলার কর্মসূচি:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় হুইপ জনাব সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার (ছেলুন) এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উন্নয়ন মেলা ২০১৭ এর দুপুর ২.০০ টায় শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণপূর্বক শুভ উদ্বোধন করবেন আগামী ০৯ জানুয়ারি ২০১৭ বিকাল ০৩.০০ ঘটিকায়। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জনাব মোঃ সলিমুল্লাহ, যুগ্ম-সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকা, জনাব মোঃ বেলায়েত হোসেন, পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত), চুয়াডাঙ্গা, জনাব ওবায়দুর রহমান চৌধুরী, মেয়র, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা, জনাব মোঃ আসাদুল হক বিশ্বাস, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, চুয়াডাঙ্গা সদর, জনাব মোঃ লুৎফর রহমান, সচিব, জেলা পরিষদ, চুয়াডাঙ্গা ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপন্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জনাব সায়মা ইউনুস, জেলা প্রশাসক, চুয়াডাঙ্গা।   

ক) চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্টল নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগসহ ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে বর্ণিলভাবে সজ্জিতকরণ।

খ) উদ্বোধনী দিনে স্কুল, কলেজ, মাদ্‌রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সকল সরকারি দপ্তর এবং সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা (জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠ পর্যন্ত)।

গ) মেলায় অংশগ্রহণকারী স্ব স্ব বিভাগের উন্নয়ন কার্যক্রম এমনভাবে তুলে ধরবে যাতে জনগণ সরকারের উন্নয়ন সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা লাভ করতে পারে। এক্ষেত্রে মেলার স্টল সমূহে ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের সাহায্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ১০টি উদ্যোগ ও সাফল্যগাঁথা তুলে ধরা।

ঘ) মেলা চলাকালীন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ ১০টি উদ্যোগ সংক্রান্ত বিতর্ক ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন।

ঙ) স্থানীয় কেবল নেটওয়ার্ক ও প্রিন্ট মিডিয়া এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে উন্নয়ন মেলার ব্যাপক প্রচার।

চ) তথ্য অফিস, চুয়াডাঙ্গা কর্তৃক উম্মুক্ত স্থানে এতদ্‌সংক্রান্ত তিন দিন ব্যাপী ভিডিও চিত্র/প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন।

ছ) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভিত্তিক উন্নয়ন এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও জেলা কালচারাল অফিসার, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, চুয়াডাঙ্গা কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শন বিষয়ে বিশেষ গান রচনাপূর্বক পরিবেশন।

জ)  প্রতিদিন সকাল ০৯.০০ ঘটিকা হতে সন্ধ্যা ৭.০০ ঘটিকা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত থাকবে।

তাছাড়া মেলায় স্থানীয় ঐতিহ্যের ধারক পান চাষ প্রদর্শন, পিঠা, বাঁশ বেতের তৈরী সামগ্রী প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

বর্তমান ডিসি ইকোপার্কের কয়েকটি দৃশ্যঃ